শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
মনপুরার শিক্ষক কেলেঙ্কারি, উন্মোচিত হল বিশৃঙ্খলার নাটক!
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরা উপজেলার ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যেখানে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মাইনউদ্দিনকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করেছে গুরুতর অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার দায়ে। জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সংবর্ধনা ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেই ছিলেন ওই অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক, অথচ কুচক্রী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তিনি বারবার গোপন বৈঠক করেছেন এবং পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলার পটভূমি তৈরি করেছেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর সামনেই পরিকল্পিতভাবে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়, যার জেরে পুরো অনুষ্ঠানই বিশৃঙ্খলায় ভরে ওঠে। তদন্তে দেখা যায়, মাইনউদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, তা আর অস্বীকারের উপায় ছিল না। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এটাই শুধু নয়—মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার সময় তিনি নিজের আগের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূতভাবে ওই পদে নিয়োগ নেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়—তিনি মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক—তাকে এই অপকর্মে সহায়তা করে। এই পদকে তিনি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং একটি ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা ব্যবহার করে তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশে নানান শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, মাইনউদ্দিনের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আতঙ্কে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দুটি শোকজ নোটিশ পাঠায়। যদিও তিনি একটির উত্তর দেন, অপরটির কোনো জবাব দেননি। এ কারণেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অবশেষে, ৬ মে বিদ্যালয় এডহক কমিটির বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই আদেশ ৭ মে থেকে কার্যকর হবে।
এই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মাইনউদ্দিনের বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষাঙ্গনকে যেভাবে কলুষিত করা হয়েছে, তা দুঃখজনক এবং ন্যক্কারজনক। এখন দেখার বিষয়, এই বরখাস্তের মাধ্যমে আদৌ কি প্রতিষ্ঠানটিতে শৃঙ্খলা ফিরবে, নাকি এটি কেবল একটি বহুল আলোচিত ঘটনার সূচনা মাত্র!